যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মীদের বাসা খোঁজার সহজ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী হিসেবে আসার পর বাসস্থান খুঁজে পাওয়াটা সাধারণত সবচেয়ে বড় খরচ এবং উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখানে আপনার হয়তো কোনো ক্রেডিট হিস্ট্রি (Credit history), স্থানীয় রেফারেন্স বা খোঁজাখুঁজির পর্যাপ্ত সময় থাকবে না। এই নির্দেশিকায় বাসা খোঁজার বাস্তবসম্মত উপায়, বাড়িওয়ালারা কী কী চাইতে পারেন এবং নতুনদের লক্ষ্য করে চালানো প্রতারণাগুলো কীভাবে এড়িয়ে চলবেন, তা তুলে ধরা হয়েছে।
বিকল্প ১: নিয়োগকর্তার দেওয়া বাসস্থান
যুক্তরাষ্ট্রে কিছু কিছু চাকরির সাথে বাসস্থানের সুবিধাও থাকে, আর নির্দিষ্ট কিছু ভিসার কর্মীদের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক: H-2A কৃষি খাতের নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই বিনা খরচে বাসস্থান দিতে হবে সেসব কর্মীদের, যাদের পক্ষে প্রতিদিন নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া এই বাসস্থানকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তার মান বজায় রাখতে হবে। কিছু H-2B এবং অন্যান্য নিয়োগকর্তারাও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেন- যা কখনো বিনামূল্যে আবার কখনো বেতন থেকে ভাড়া কাটার মাধ্যমে হতে পারে।
প্রস্তাব গ্রহণ করার আগে সমস্ত বিবরণ লিখিতভাবে জেনে নিন: এতে কোনো খরচ আছে কি না, প্রতি ঘরে কতজন থাকবেন, কর্মক্ষেত্র থেকে দূরত্ব কতটুকু এবং চাকরি শেষ হয়ে গেলে আপনার বাসস্থানের কী হবে। নিয়োগকর্তা কর্তৃক বাসস্থান বাবদ বেতন কাটার বিষয়টিকে আইনসম্মত ও পরিষ্কার হতে হবে। যদি আপনার জব অর্ডার বা চুক্তিতে বাসস্থানের খরচের কথা উল্লেখ না থাকে, তবে অবশ্যই প্রশ্ন তুলুন।
বিকল্প ২: রুম বা যৌথভাবে বাসা ভাড়া নেওয়া
বেশিরভাগ নতুন আসা কর্মীদের জন্য একটি শেয়ার্ড বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে রুম ভাড়া নেওয়াটাই প্রাথমিক ও বাস্তবসম্মত উপায়। এতে খরচ কম, পুরো বাসা ভাড়ার তুলনায় কাগজপত্র কম লাগে এবং দ্রুত একটি স্থানীয় ঠিকানা পাওয়া যায়। সহকর্মী, পরিচিতজন, নিজের দেশের কমিউনিটি গ্রুপ কিংবা লিস্টিং সাইটের মাধ্যমে এসব বাসার সন্ধান পেতে পারেন। রুমমেটদের সাথে কথা বলুন, সরাসরি বা লাইভ ভিডিও কলে ঘরটি দেখুন এবং পেমেন্টের শর্তাবলী লিখিতভাবে নিন। একটি সাধারণ লিখিত চুক্তিও উভয় পক্ষকে সুরক্ষিত রাখে।
বিকল্প ৩: নিজের নামে চুক্তি করে বাসা ভাড়া নেওয়া
সরাসরি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে সাধারণত একটি আবেদন জমা দিতে হয়, যার সাথে লাগে:
- আয়ের প্রমাণপত্র: সাধারণত বাড়িওয়ালারা মাসিক আয় ভাড়ার প্রায় তিনগুণ দেখতে চান। নতুন অবস্থায় সাম্প্রতিক পে স্টাব বা বেতনসহ চাকরির অফার সংক্রান্ত নিয়োগকর্তার চিঠি কাজ করবে।
- পরিচয়পত্র: একটি পাসপোর্টই যথেষ্ট।
- ক্রেডিট চেক (Credit check): নতুন হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকায় আপনি এতে উত্তীর্ণ হতে পারবেন না।
ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকাটা সমাধানযোগ্য একটি সমস্যা। এর বিকল্প হিসেবে বাড়িওয়ালারা সাধারণত যেসব বিষয় গ্রহণ করেন:
- অতিরিক্ত সিকিউরিটি ডিপোজিট বা কয়েক মাসের ভাড়া অগ্রিম দেওয়া (কিছু অঙ্গরাজ্যের আইনে সিকিউরিটি ডিপোজিটের সীমা নির্ধারিত থাকে)
- চাকরি ও বেতনের নিশ্চয়তা দিয়ে নিয়োগকর্তার দেওয়া একটি চিঠি
- একজন কো-সাইনার (Co-signer), অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি যিনি আপনার ভাড়ার গ্যারান্টি দেবেন (যদি আপনার চেনা কেউ থাকে)
- একক বা ব্যক্তিগত বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া, যারা বড় ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির চেয়ে তুলনামূলক বেশি নমনীয় হন
বাসায় ওঠার প্রাথমিক খরচসমূহ
শুধু প্রথম মাসের ভাড়াই যথেষ্ট নয়, অতিরিক্ত খরচের বাজেট রাখুন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসায় ওঠার খরচের মধ্যে সাধারণত রয়েছে: প্রথম মাসের ভাড়া, একটি সিকিউরিটি ডিপোজিট (সাধারণত এক মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ, বাসা ভালো অবস্থায় রেখে দিলে ফেরৎযোগ্য), অনেক সময় শেষ মাসের ভাড়া, আবেদন ফি (Application fee) এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির (Utility) সেটআপ খরচ। শহর ও অঞ্চলভেদে বাসা ভাড়া অনেক আলাদা হতে পারে- ছোট কোনো শহরের রুম এবং বড় কোনো শহরের অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। তাই কোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগে আপনার কর্মস্থলের এলাকার খরচ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
বাসা ভাড়ার প্রতারণা: নতুনদের জন্য ফাঁদ
প্রতারকরা সাধারণত বিদেশ থেকে বাসা খোঁজা মানুষদের লক্ষ্য বানায়, কারণ আপনি চাইলেই সহজে গিয়ে বাসা দেখতে পারবেন না। যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন:
- স্থানীয় বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম ভাড়া- অস্বাভাবিক কম ভাড়া দিয়ে ফাঁদ ফেলা হয়
- কোনো তথাকথিত "বাড়িওয়ালা" যিনি "ভ্রমণে আছেন" বলে বাসা দেখাতে পারছেন না এবং বাসা "বুক" করার জন্য তারের মাধ্যমে টাকা (Wire), গিফট কার্ড বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ডিপোজিট চাচ্ছেন
- সরাসরি বা লাইভ ভিডিওতে বাসা দেখার আগে এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগেই টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া
- প্রকৃত বিজ্ঞাপন থেকে ছবি ও তথ্য চুরি করে যোগাযোগের নম্বর বদলে দেওয়া বিজ্ঞাপন- তা যাচাই করতে ছবি ও ঠিকানা সার্চ করে দেখুন
মূল নিয়ম: যাচাই না করে বাসস্থানের জন্য কখনো টাকা পাঠাবেন না এবং নগদ টাকা বা ওয়্যার ট্রান্সফারের চেয়ে ব্যাংক বা ট্র্যাকিং করা যায় এমন মাধ্যমে লেনদেন করুন।
ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার অধিকার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার আইন রয়েছে, যেখানে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ (তাপমাত্রা, পানি, নিরাপত্তা), ডিপোজিট ফেরত পাওয়া এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার নিয়মকানুন অন্তর্ভুক্ত। আপনি যে দেশেরই নাগরিক হন না কেন, এই আইনগুলো আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাজ্য ও শহরভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে; আপনার রাজ্য বা শহরের সরকারি ওয়েবসাইট এবং স্থানীয় ভাড়াটিয়া সংগঠনগুলো থেকে বিস্তারিত জানা যাবে। নিয়োগকর্তা বাসস্থান সরবরাহ করলে তার ওপর শ্রম আইনও প্রযোজ্য হতে পারে; অনিরাপদ বাসস্থানের বিষয়ে dol.gov ওয়েবসাইটে লেবার ডিপার্টমেন্ট (Department of Labor)-এ অভিযোগ করা যায়।
চাকরির খুঁটিনাটি আগে থেকেই স্পষ্ট থাকলে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সহজ হয়, এজন্যই মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি নিয়োগকর্তার সাথে কথা বলা ভালো। Workmerica-এ যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করেন, তারা সরাসরি কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেন। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আপনি বাসস্থান, কাজের জায়গা ও জীবনযাত্রার খরচ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আপনার বিনামূল্যে প্রোফাইল তৈরি করুন - কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, কোনো ক্রেডিট কার্ড বা এজেন্সির প্রয়োজন নেই।
চাকরিদাতাদের নজরে আসতে প্রস্তুত?
২ মিনিটে আপনার প্রোফাইল তৈরি করুন। একদম ফ্রি, কোনো ক্রেডিট কার্ড লাগবে না।



