যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য অ্যাপোস্টিল ও কাগজপত্র সত্যায়ন

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ার কোনো এক পর্যায়ে আপনার কাছে হয়তো কোনো কাগজের "অ্যাপোস্টিল" (Apostille) বা "লিগ্যালাইজড" (সত্যায়িত) কপি চাওয়া হতে পারে। বিষয়টি কিছুটা আমলাতান্ত্রিক মনে হলেও এর ধারণাটি খুবই সহজ: এটি একটি সরকারি সিল বা স্ট্যাম্প, যা প্রমাণ করে যে আপনার মূল সনদ বা কাগজপত্রটি আসল, যাতে অন্য কোনো দেশের কর্তৃপক্ষ তা সহজে বিশ্বাস করে।
অ্যাপোস্টিল আসলে কী?
অ্যাপোস্টিল হলো হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন কর্তৃক নির্ধারিত একটি মানসম্মত সনদ বা সার্টিফিকেট। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শতাধিক দেশ এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রমাণ করে যে কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সনদ - যেমন জন্ম নিবন্ধন, ডিপ্লোমা/ডিগ্রি সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা বিবাহের সনদে থাকা স্বাক্ষর ও সিলটি আসল। এটি দলিলের ভেতরের তথ্য সত্য কি না তা যাচাই করে না, বরং সনদটি আসল ও সঠিকভাবে ইস্যু করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে।
আপনার দেশ যদি এই কনভেনশনের সদস্য হয়, তবে আপনি নিজের দেশ থেকেই নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অ্যাপোস্টিল করাতে পারবেন - যা সাধারণত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় বা নোটারি চেম্বার করে থাকে। আর আপনার দেশ যদি সদস্য না হয়, তবে আপনাকে তুলনামূলক দীর্ঘ ও পুরোনো 'কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন' পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে: প্রথমে নিজ দেশে সত্যায়ন, এরপর মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে সার্টিফাই করানো।
কর্মীদের সাধারণত কোন কোন কাগজের অ্যাপোস্টিল লাগে?
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স / অপরাধমূলক রেকর্ডের সনদ: লাইসেন্সপ্রাপ্ত চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, চাইল্ডকেয়ার এবং কিছু নিয়োগকর্তার ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য প্রায়ই প্রয়োজন হয়।
- জন্ম সনদ: ডিপেনডেন্ট ভিসা, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি এবং কিছু স্টেটের আইডি পাওয়ার প্রক্রিয়ার জন্য।
- বিবাহের সনদ: স্পাউস বা জীবনসঙ্গীর ভিসা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় তাদের নাম যুক্ত করার জন্য।
- ডিপ্লোমা ও নম্বরপত্র (ট্রান্সক্রিপ্ট): লাইসেন্সিং বোর্ড বা শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের (ক্রেডেনশিয়াল ইভালুয়েটর) লাগতে পারে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান অ্যাপোস্টিল ছাড়াই সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো ট্রান্সক্রিপ্ট গ্রহণ করে।
- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা): আপনি বিদেশে থাকা অবস্থায় দেশে আপনার সম্পত্তি বা কাজ পরিচালনার জন্য অন্য কাউকে দায়িত্ব দিলে এটি লাগে।
মনে রাখবেন, সাধারণ ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোর অ্যাপোস্টিল লাগে না: USCIS-এর কাছে সাধারণ ভিসা পিটিশনের ক্ষেত্রে বিদেশি নথির সত্যায়িত অনুবাদ (সার্টিফাইড ট্রান্সলেশন) প্রয়োজন হলেও অ্যাপোস্টিলের প্রয়োজন হয় না। যার প্রয়োজন নেই এমন সিলে অনর্থক টাকা খরচ করবেন না; আগে তথ্য গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে নিন।
প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে?
- সনদের সাম্প্রতিক মূল কপি সংগ্রহ করুন; অনেক কর্তৃপক্ষই কয়েক মাসের পুরোনো সনদ (বিশেষ করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স) গ্রহণ করে না।
- আপনার দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাপোস্টিলের জন্য আবেদন করুন। দেশভেদে ফি ভিন্ন হয়, যা সাধারণত নথি প্রতি আনুমানিক 10 থেকে 50 ডলারের সমপরিমাণ হয়ে থাকে। আর সময় লাগে একই দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত।
- কাগজপত্র ইংরেজিতে না থাকলে তার একটি সত্যায়িত ইংরেজি অনুবাদ (সার্টিফাইড ট্রান্সলেশন) করিয়ে নিন। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মে, অনুবাদকের একটি স্বাক্ষরিত নির্ভুলতার সনদই যথেষ্ট। কিছু সংস্থা আবার অ্যাপোস্টিল করার পর অনুবাদ করার অনুরোধ করে, যাতে অ্যাপোস্টিলের সিলটিও অনূদিত হয়।
অনুবাদ: যে ছোট ভুলের কারণে মানুষ সমস্যায় পড়ে
অ্যাপোস্টিল কেবল আপনার সনদকে সত্যায়িত করে, কিন্তু মার্কিন সংস্থাকে সেটি পড়ার জন্য ইংরেজি জানতে হয়। USCIS সহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ সংস্থায় আবেদনের ক্ষেত্রে "সার্টিফাইড ট্রান্সলেশন" (সত্যায়িত অনুবাদ) আবশ্যক। এটি হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিকল অনুবাদ, যার সাথে অনুবাদকের একটি স্বাক্ষরিত বিবৃতি থাকে - যেখানে বলা হয় যে তিনি এই অনুবাদে সক্ষম এবং অনুবাদটি সঠিক। ইউরোপের অনেক দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সরকার-নিযুক্ত "স্বর্ণ অনুবাদক" (sworn translator) ব্যবস্থা নেই, তাই যোগ্য যে কেউ এটি সার্টিফাই করতে পারেন। তবে আবেদন বাতিল এড়াতে পেশাদার অনুবাদ প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়া ভালো (সাধারণ ভাষার জন্য খরচ সাধারণত পৃষ্ঠা প্রতি 20 থেকে 40 ডলার)। দুটি বাস্তবসম্মত নিয়ম মনে রাখুন: পৃষ্ঠার সবকিছু অনুবাদ করুন (সিল, স্ট্যাম্প এবং অ্যাপোস্টিলের লেখা সহ) এবং কখনোই নিজের কাগজপত্র নিজে অনুবাদ করবেন না, কারণ সংস্থাগুলো স্ব-অনূদিত কাগজ গ্রহণ করে না। আপনার দেশে আগেই করা কোনো 'স্বর্ণ অনুবাদ' থাকলে তা প্রায়ই গৃহীত হয়, তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে নিন।
সময়কাল: যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগেই এটি সেরে নিন
সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো অ্যাপোস্টিল ছাড়া দেশ ত্যাগ করা এবং ৮,০০০ কিলোমিটার দূরে আসার পর জানা যে সেগুলো লাগবে। দূর থেকে অ্যাপোস্টিল করাতে গেলে আত্মীয়স্বজন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা পেইড এজেন্সির সহায়তা নিতে হয়, যা বেশ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দেওয়ার আগেই আপনার জন্ম সনদ, বিবাহের সনদ ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের অ্যাপোস্টিল করা কপি সংগ্রহ করুন এবং মূল কপির পাশাপাশি ভালো মানের স্ক্যান কপিও রেখে দিন। পরে বিদেশে বসে সমস্যার সমাধানের চেয়ে এই প্রক্রিয়া অনেক সহজ। এছাড়া ইউএস ওয়ার্ক ভিসা বিষয়ক আমাদের নির্দেশিকায় থাকা অন্যান্য কাগজপত্রের সাথেও এটি বেশ মানানসই।
প্রতারণা এড়িয়ে চলুন
কেবলমাত্র সরকারি কর্তৃপক্ষই অ্যাপোস্টিল ইস্যু করতে পারে। কোনো এজেন্সি সার্ভিস ফি নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো বা জমার কাজ করে দিতে পারে, তবে চাকরির অফার "লিগ্যালাইজ" করার জন্য অনেক বেশি টাকা দাবি করা কাউকে বিশ্বাস করবেন না। মনে রাখবেন: কোনো বৈধ নিয়োগকর্তা চাকরির অফারের জন্য কর্মীর কাছ থেকে টাকা নেয় না।
এটি একটি সাধারণ তথ্যনির্দেশিকা, কোনো আইনি পরামর্শ নয়। আপনার দেশ এবং মার্কিন সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই তথ্য গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান এবং uscis.gov বা হেগ কনফারেন্সের (hcch.net) সদস্য তালিকার মতো সরকারি সোর্সগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে নিন।
আপনার কাগজপত্র ঠিক হয়ে গেলে, নিয়োগকর্তাদের কাছে নিজেকে তুলে ধরুন। Workmerica-তে আপনার বিনামূল্যে প্রোফাইল তৈরি করুন - এটি সম্পূর্ণ ফ্রি, কোনো ক্রেডিট কার্ড লাগে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারাই সরাসরি আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন।
চাকরিদাতাদের নজরে আসতে প্রস্তুত?
২ মিনিটে আপনার প্রোফাইল তৈরি করুন। একদম ফ্রি, কোনো ক্রেডিট কার্ড লাগবে না।



